ঢাকা,  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,

তাহসিফের সুরতহাল: শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই

জাতীয়

গণবাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:১৭, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

তাহসিফের সুরতহাল: শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং পেট ফোলা ছিল। সুরতহাল প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কালবেলার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।

প্রতিবেদনের বর্ণনা অনুযায়ী, তাহসিফের উচ্চতা ছিল আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। তাঁর মাথার চুল কালো, মুখে ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। উদ্ধারের সময় তাঁর চোখ ও মুখ বন্ধ ছিল। দুই হাত মাথার সামনের দিকে বাঁকানো এবং মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় ছিল।

তাঁর বুক, পিঠ, দুই পা ও যৌনাঙ্গে দৃশ্যমান অস্বাভাবিকতা বা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ধারের সময় তাঁর পরনে ছিল কালো ফুলহাতা কাবলি শার্ট ও সাদা ট্রাউজার।

নৌ পুলিশের তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর হাতে একটি ঘড়ি ও পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

২৮ বছর বয়সী তাহসিফ ঢাকার উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে বসবাস করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গায়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনার একটি ভিডিও তাহসিফ ধারণ করেছিলেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন দাবি ও বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে।

তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ। সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে দৃশ্যমান আঘাত না থাকার তথ্য থাকলেও, শুধু এ তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ বা মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিত করা যায় না।