ঢাকা,  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,

ইসরায়েলের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

ইসরায়েলের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। ভোটের প্রাথমিক ফলাফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ভোট গণনার একপর্যায়ে নেতানিয়াহুর জোট ৫৫টি আসনে এগিয়ে ছিল। অন্যদিকে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির পেয়েছে ৪৯টি আসন। আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১৬। তবে ভোট গণনা শেষ না হওয়ায় এ হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন। সে হিসাবে এগিয়ে থাকলেও নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে রয়েছে। বিরোধী শিবিরের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি।

এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। গাজায় যুদ্ধ পরিচালনা, জাতীয় নিরাপত্তা, সামরিক ব্যর্থতা এবং নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক নির্বাচনী প্রচারে বড় ভূমিকা রেখেছে।

নেতানিয়াহু নিজের সামরিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে আবারও ডানপন্থী সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে আইজেনকোট নির্বাচনের ফলকে পরিবর্তনের পক্ষে জনসমর্থন হিসেবে তুলে ধরেছেন।

নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট, দুই নেতার জন্যই সরকার গঠনের বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা। বিরোধী শিবির আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। তবে এসব দলের সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধ রয়েছে।

নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। আইজেনকোটও নির্বাচনী প্রচারে আরব আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে সরকার গঠনের বিষয়ে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন। ফলে সরকার গঠনের আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। জোট আলোচনা ব্যর্থ হলে দেশটিতে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ভোট গণনা ও চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর এখন ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারের ভাগ্য নির্ভর করছে। নির্বাচনের ফল দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তানীতি ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: এপি ও আল জাজিরা