ঢাকা,  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,

ঢাকাকে টোকিওর আদলে গড়তে চান প্রধানমন্ত্রী

ঢাকাকে টোকিওর আদলে গড়তে চান প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাসহ সারা দেশকে পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ঢাকা শহরকেও জাপানের রাজধানী টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাপানের রাজধানী টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

তারেক রহমান বলেন, টোকিওর রাস্তাঘাটে সাধারণত ময়লা-আবর্জনা দেখা যায় না। অথচ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা জমে থাকে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি। আবর্জনা থেকে জীবাণু ছড়ায়। তাই নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং যথাযথ বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকাসহ সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বায়ুদূষণ কমানো, পরিবেশের উন্নয়ন ও বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রাস্তায় আবর্জনার কারণে মানুষের চলাচলে ভোগান্তি এবং দূষিত বাতাসের কারণে অসুস্থতা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন করতে পারা একটি বড় সংস্কার হবে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চায়, যাতে সমাজের প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষ সরাসরি উপকৃত হন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের সুফল সব শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে পৌঁছানো সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সেই সংস্কারকেই গুরুত্ব দেন, যার সুবিধা দেশের প্রান্তিক মানুষও পান। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, সরকারের সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীদের পরিবারসহ দেশের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। এ উদ্যোগগুলো সঠিক মনে হলে সেগুলো বাস্তবায়নে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শিশুদের জাপানি ভাষা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলায় দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।