ঢাকা,  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,

পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কঠোর হওয়ার আহ্বান রিজভীর

পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কঠোর হওয়ার আহ্বান রিজভীর

ছবি: সংগৃহীত

পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় নরম সুরে কথা বলে লাভ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের নদ-নদী ও পরিবেশ রক্ষায় ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালো প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘জাতীয় পানিসম্পদ সুরক্ষায় পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী অভিযোগ করেন, ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার ও উজানে বাঁধ নির্মাণের কারণে বাংলাদেশের নদ-নদী ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, ভারত নিজেদের রাজ্যগুলোর মধ্যে পানি বণ্টন নিয়ে আইনি লড়াই করলেও অন্য দেশের পানির ন্যায্য অধিকার রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

তিনি বলেন, পানির অধিকার আদায়ে শুধু কূটনৈতিক আলোচনা যথেষ্ট নয়। এ বিষয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে।

১৯৭৭ সালের পানি চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা প্রশ্ন করেন, ওই চুক্তিতে পানির নিশ্চয়তাসংক্রান্ত যে বিধান ছিল, ১৯৯৬ সালে তা কেন বাদ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, ফারাক্কা ও গজলডোবার মাধ্যমে উজানে পানি সরিয়ে নেওয়ার কারণে বাংলাদেশের পদ্মা ও তিস্তাসহ বিভিন্ন নদী সংকটের মুখে পড়েছে।

বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, বর্ষার পানি ধরে রাখতে পারলে শুষ্ক মৌসুমে তা কৃষি ও দেশের অন্যান্য প্রয়োজনে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নত করার পাশাপাশি কৃষি ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে কৃত্রিম হস্তক্ষেপের পরিবেশগত প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি নদী ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর নীতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি, তিস্তা নদী সুরক্ষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশি প্রফেশনালস যৌথভাবে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।