ফাইল ছবি
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন। এসব অপরাধের মধ্যে হত্যা, নিপীড়ন, নির্যাতন, ধর্ষণ ও অন্যান্য ধরনের যৌন সহিংসতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে কমিশনের নতুন প্রতিবেদনে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান এবং ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলার অংশ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে কমিশন। প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ১ হাজার ৮০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ৩৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত অবস্থায় ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয়তা, বর্ণ, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ ও বয়সের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলার শিকারদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।
কমিশনের পর্যবেক্ষণে, পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে গুরুতরভাবে ব্যাহত করছে।
প্রতিবেদনে গাজার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের দাবি, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও সেখানে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে, যা গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ডের বিস্তার আরও বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার কারণ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন বলেছে, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা, তাদের বশীভূত রাখা এবং ফিলিস্তিনি সমাজকে অস্থিতিশীল করে তুলতে যৌন সহিংসতা ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি ভোগের সুযোগ রয়েছে বলেও কমিশন উল্লেখ করেছে।
প্রতিবেদনটি পশ্চিম তীর ও গাজায় বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত এবং অভিযুক্তদের জবাবদিহির প্রশ্নকে আবারও সামনে এনেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা























