ঢাকা,  মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬,

শিশুর প্রোটিনের ঘাটতি বুঝবেন যেভাবে

শিশুর প্রোটিনের ঘাটতি বুঝবেন যেভাবে

ফাইল ছবি

শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, পেশি গঠন এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বেড়ে ওঠার সময়ে পর্যাপ্ত প্রোটিন না পেলে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। তবে শিশুর খাবারে প্রোটিনের ঘাটতি হচ্ছে কি না, তা সব সময় সহজে বোঝা যায় না। খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক বৃদ্ধি ও দৈনন্দিন আচরণে কিছু পরিবর্তন এ ক্ষেত্রে সতর্কসংকেত হতে পারে। 

প্রোটিনের ঘাটতির ৫ লক্ষণ

১. ঘন ঘন ক্ষুধা পাওয়া

শিশু যদি মূল খাবার খাওয়ার পরও বারবার বিস্কুট, চিপস বা অন্যান্য খাবার খেতে চায়, তাহলে তার খাদ্যতালিকা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। খাবারে প্রোটিন কম থাকলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা নাও থাকতে পারে। তবে ঘন ঘন ক্ষুধা পাওয়াই প্রোটিনের ঘাটতির নিশ্চিত প্রমাণ নয়।

২. অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়া

খেলাধুলা বা স্বাভাবিক কাজকর্মের সময় শিশু দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়লে তার খাবার ও ঘুমের দিকে নজর দিন। প্রোটিনের ঘাটতি ছাড়াও রক্তস্বল্পতা, ঘুমের সমস্যা কিংবা অন্য অসুস্থতার কারণে ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

৩. বয়স অনুযায়ী ওজন ও উচ্চতা না বাড়া

শিশুর বয়স বাড়লেও ওজন বা উচ্চতা প্রত্যাশিত হারে না বাড়লে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। প্রোটিনের পাশাপাশি মোট খাদ্যশক্তি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিও শিশুর বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

৪. বারবার অসুস্থ হওয়া

শিশু ঘন ঘন অসুস্থ হলে অথবা অসুখ থেকে সেরে উঠতে বেশি সময় নিলে তার পুষ্টির অবস্থা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে প্রোটিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। তবে বারবার অসুস্থ হওয়ার অন্য কারণও থাকতে পারে।

৫. পেশির দুর্বলতা, ত্বক ও চুলের পরিবর্তন

শিশুর পেশি দুর্বল হয়ে পড়া, চুল পাতলা হওয়া, ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেওয়া কিংবা ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া অপুষ্টির লক্ষণ হতে পারে। এসব সমস্যার সঙ্গে ওজন কমে যাওয়া বা শরীর ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। 

শিশুর খাবারে কী রাখবেন?

প্রোটিনের চাহিদা পূরণে শিশুর বয়স ও উপযোগিতা অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে ডিম, মাছ, মাংস, দুধ, দই, ডাল, ছোলা ও অন্যান্য ডালজাতীয় খাবার। একই ধরনের খাবারের ওপর নির্ভর না করে বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্য দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুর বয়স, ওজন ও শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী প্রোটিনের প্রয়োজন ভিন্ন হয়। তাই সবার জন্য একই পরিমাণ প্রোটিন উপযুক্ত নয়।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

শিশুর ওজন বা উচ্চতা দীর্ঘদিন না বাড়লে, অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে কিংবা একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে থাকলে শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসক শিশুর বৃদ্ধি, খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নির্ধারণ করবেন।

শুধু লক্ষণ দেখে প্রোটিনের ঘাটতি নিশ্চিত করা যায় না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে প্রোটিন পাউডার বা সাপ্লিমেন্ট দেওয়া উচিত নয়।

শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং বয়স অনুযায়ী বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ জরুরি।