ছবি: সংগৃহীত
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আলোচিত মাদক কারবারি জুয়েল রানা ও তার স্ত্রী সালমা জাহানের নামে থাকা ২৪টি ব্যাংক হিসাবে গত কয়েক বছরে ১৪ কোটি ২৪ লাখ টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় অর্থ পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাঁদের সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দুইজনের ব্যাংক হিসাবে বিপুল অঙ্কের লেনদেনের পাশাপাশি জমি, বাড়িসহ বিভিন্ন সম্পদের তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের বৈধ উৎস অনুসন্ধান করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জুয়েল রানার নামে ১২টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং তাঁর স্ত্রী সালমা জাহানের নামে থাকা ১২টি হিসাবে প্রায় ৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে লেনদেনের পরিমাণ ১৪ কোটি ২৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৮৮ টাকা।
তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুয়েল রানার নামে বিভিন্ন জেলায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। মাদক কারবারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে সম্পদ গড়ার অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে।
সম্পদের খোঁজে তদন্ত
তদন্তে জুয়েল রানার নামে একাধিক জমি ও বাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীর নামেও জমির সন্ধান মিলেছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে একটি পেট্রল পাম্প এবং ঢাকায় আরও বাড়ি থাকার তথ্যও তদন্তসংশ্লিষ্টদের নজরে এসেছে। তবে এসব সম্পদের মালিকানা ও মূল্য যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তদন্ত কর্মকর্তা সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব জব্দের জন্য আদালতে আবেদন করেছেন। আদালতের আদেশের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অর্থ পাচারের মামলায় তদন্ত চলছে
জুয়েল রানার বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় হওয়ার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর তাঁকে রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থের উৎস, সম্পদের প্রকৃত মালিকানা এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।























