ঢাকা,  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,

জায়গার অভাবে তুরস্কে ফেরত যাচ্ছে ৭.৩ লাখ ডলারের যন্ত্রপাতি

জায়গার অভাবে তুরস্কে ফেরত যাচ্ছে ৭.৩ লাখ ডলারের যন্ত্রপাতি

ছবি: সংগৃহীত

কারখানায় স্থাপনের জায়গা না থাকায় বাংলাদেশ থেকে তুরস্কে ফেরত পাঠানো হচ্ছে ৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের আমদানি করা যন্ত্রপাতি। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিঙ্গাপুরের যৌথ মালিকানাধীন শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান লিজ টোব্যাকো মেশিনারি কোম্পানি লিমিটেড এ উদ্যোগ নিয়েছে।

যন্ত্রপাতিটি নতুন ও অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। শুল্ক-করমুক্তভাবে পুনঃরপ্তানির অনুমোদন চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

এনবিআরের নথি অনুযায়ী, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ৫১৩-৬১৬ নম্বর প্লটে প্রতিষ্ঠানটির কারখানা। ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১০১৫৩০-এর মাধ্যমে এক সেট ‘সি-উইড প্রোডাকশন লাইন’ আমদানি করা হয়। পরে কারখানায় যন্ত্রপাতি স্থাপনের জায়গা না থাকায় গত ৫ অক্টোবর পুনঃরপ্তানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি।

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, চট্টগ্রামের সরেজমিন পরিদর্শনে যন্ত্রপাতিটি সম্পূর্ণ নতুন ও অব্যবহৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এটি বাংলাদেশে স্থাপন, চালু কিংবা উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির আবেদনে বলা হয়েছে, যন্ত্রপাতি আমদানির বিপরীতে পরিশোধিত ৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পুনঃরপ্তানিসংক্রান্ত কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যন্ত্রপাতিটি দেশে ব্যবহার না হওয়া, কাস্টমসের পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনের তথ্য বিবেচনায় নিয়ে শর্তসাপেক্ষে পুনঃরপ্তানির অনুমোদনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এনবিআরের প্রস্তাব অনুযায়ী, পুনঃরপ্তানির আগে বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট লিয়েন ব্যাংক এবং বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অনাপত্তিপত্র বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া আমদানির বিপরীতে পরিশোধিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ দিতে হবে। কাস্টমস কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে যন্ত্রপাতির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা, কনটেইনারে বোঝাই ও সিল করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। পুনঃরপ্তানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালানটি কাস্টমসের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

পুনঃরপ্তানির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের কোনো উৎস থেকে নতুন করে বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাঠানো যাবে না। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর রপ্তানি ঘোষণা, শিপিং বিল, বিল অব লেডিং বা এয়ারওয়ে বিলসহ প্রয়োজনীয় দলিলও জমা দিতে হবে।

এনবিআরের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়ার তারিখ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে যন্ত্রপাতির পুনঃরপ্তানি সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত শর্ত বা প্রযোজ্য আইন লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে এনবিআরের অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন অর্থমন্ত্রীর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।