ছবি: গণবাংলা
‘বাংলাদেশ’ নামক রাষ্ট্রের জন্মের ইতিহাস যাদের রক্ত আর আত্মত্যাগে গড়া, সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বঞ্চনা আর নিগৃহের লাগাম টানার সাধ্য যেন কারো হাতেই নেই। তাদের বঞ্চনার দীর্ঘশ্বাস আজ চাপা পড়ে গেছে ক্ষমতার গহ্বরে, দুর্নীতির উল্লাসে। ভূমিহীন, বেকার ও অসহায় মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের সদস্যদের আবাসন প্রকল্পে দুর্নীতি আর অনিয়ম কোন কাল্পনিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বিশ্বাস ঘাতকতার এক করুণ দলিল। স্বাধীনতার কারিগর মুক্তিযোদ্ধারাদের অপমানের নির্লজ্জ নীল নকশা যা বিগত আওয়ামী সরকার নিখুঁতভাবে মঞ্চায়িত করেছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সম্মানজনক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা দেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব থেকেই তিন বারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গড়ে তুলেছিলেন ‘বিজয় মুক্তিযোদ্ধা সিটি’। ভূমিহীন, বেকার ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের জন্য একটি স্বপ্নের আবাসন প্রকল্প। ১৯৯৪ সালে বেগম খালেদা জিয়া মানবিক বিবেচনায় মিরপুর-১৪ এলাকার ১৬.০২ একর জমি ‘মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতি’র নামে বরাদ্দ দেন। এর পেছনে ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রতি দায়বদ্ধতা, শহীদের রক্তের প্রতি সম্মান এবং জীবিত বীরদের প্রতি রাষ্ট্রীয় কৃতজ্ঞতা। কিন্তু সময়ের প্রবাহে সেই স্বপ্ন কীভাবে পরিণত হলো দুর্নীতি ও লুটপাটের নগ্ন বাস্তবতায় আজ তা জাতির সামনে স্পষ্ট। মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন প্রকল্প পরবর্তীতে নাম বদলে হয়ে যায় ‘বিজয় রাকিন সিটি’। এর সাথে মুছে যায় মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক অধিকার।
এই প্রকল্পের অবাক করা নাম ‘বিজয়’, অথচ এখানে পরাজিত হয়েছেন বিজিত মুক্তিযোদ্ধারা। যাদের জন্য আবাসন, তারাই হয়েছেন সবচেয়ে বড় বঞ্চিত। যাদের নেতৃত্বে চলবে পুরো সিটি, আজ তারা লুণ্ঠিত, অধিকার হারা। তথ্যপ্রমাণ বলছে, মুক্তিযোদ্ধাদের নামে বরাদ্দকৃত প্রায় ৮৭০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ৭৬৬টিই দখল করেছেন প্রভাবশালী রাজনৈতিক, আমলা, পুলিশ কর্মকর্তা ও সুবিধাভোগী গোষ্ঠী। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা রয়ে গেছেন অপেক্ষার প্রহরে, কেউ আদালতের দরজায়, কেউ নিঃশব্দ অভিমানে।
সমিতির সদস্য তালিকাই এই বঞ্চনার প্রথম সাক্ষ্য বহন করে। একসময় ২৯৫ জন সদস্যের মধ্যে ১১০ জন ছিলেন অমুক্তিযোদ্ধা। এই ২৯৫ জনের মধ্যে ফ্লাট বরাদ্দ পেয়েছেন মাত্র ৫৭ জন যার ২৫ জনই অমুক্তিযোদ্ধা। ১৯৯৩ সালে শুরুর দিকে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতি’র সদস্য সংখ্যা ৫৪ জন হলেও ধাপে ধাপে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫১৬ জনে। এই ৫২৬ জনের মধ্যে ৩৩৪ জনই অমুক্তিযোদ্ধা। আবার প্রকৃত ১৮২ জন মুক্তিযোদ্ধা সদস্যের মধ্যে মাত্র ৩২ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ৪৯টি ফ্লাট বরাদ্দ দেয় বানরের রুটি ভাগের মত করে। ফলে ভুয়া ও প্রভাবশালী অমুক্তিযোদ্ধা সদস্যদের কবজায় চলে যায় অধিকাংশ ফ্ল্যাট। ফলে ভূমিহীন, বেকার ও অসহায় মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদেরই প্রকল্পে পরিণত হন পরবাসীতে। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত আদালতে যেতে বাধ্য হন বঞ্চিতরা, যা রাষ্ট্রের জন্য এক গভীর লজ্জা।
অনিয়মের কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার, অতি চালাকী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতারণা করার গভীর ষড়যন্ত্র। সরকারীভাবে পুরো রাকিন সিটি গড়ে ওঠার সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে অতিলোভী কিছু অমানুষ প্রশাসনিক ক্ষমতা খাটিয়ে রাকিন নামের একটি বেসরকারি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সাথে অবৈধ চুক্তি করে। এতে জমির মালিক মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতিকে মাত্র ৪৩% শেয়া দেওয়া হয়। এর ফলে সমিতির জমির ওপর মুক্তিযোদ্ধাদের মালিকানা ক্ষুন্ন হয়, প্রকল্পটি কার্যত বাণিজ্যিক আবাসনে রূপ নেয়। ১৯৫০টি ফ্ল্যাট ও সুপ্রশস্ত বিলাশবহুল মার্কেটের শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে মাত্র ৮৭০টি ফ্লাট সমিতির সদস্যদের প্রদান করা হয়। যার ৯৫ ভাগ ফ্লাট অমুক্তিযোদ্ধাদের দখলে চলে যায়। আবাসনে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের এই করুণ পরিণতি ভুয়া ও প্রতারকদের একচ্ছত্র ক্ষমতাপ্রাপ্ত করে। প্রশ্ন জাগে-মুক্তিযোদ্ধাদের বঞ্চিত করার এই সাহস এলো কোথা থেকে? রাষ্ট্রের কোন ছত্রচ্ছায়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন এমন নির্দয়ভাবে ভেঙে দেওয়া হলো?
এই লুটপাটের চিত্র আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন দেখা যায়, একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের পরিবার নিজেদের নামে একাধিক ফ্ল্যাট দখল করেছেন। কেউ নিজের, স্ত্রীর, সন্তানদের নামে; কেউ আত্মীয়স্বজনের নামে একের পর এক বরাদ্দ নিয়েছেন। রাজনৈতিক নেতা, সাবেক মন্ত্রী, এমপি, উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ও সচিবদের তালিকা দীর্ঘ। আর সেই তালিকার পাশে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম প্রায় অনুপস্থিত। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই, তারাই যেন হয়ে উঠেছেন এই প্রকল্পের ‘বিজয়ী’।
প্রতারক চক্রের ফ্লাট লুটপাটের ভাগবাটোয়ারায় ভূমিহীন, বেকার ও অসহায় মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রাপ্ত ৮৭০টি ফ্লাটের মধ্যে ৭৬৬ টিই স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী, এমপি; দলবাজ নেতা, পুলিশ ও আমলারা অবৈধভাবে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতির স্বঘোষিত সভাপতি (সাবেক) এ.টি আহমেদুল হক চৌধুরী ও তার স্ত্রী মিনারা বেগমের নামে ২টি করে মোট ৪টি, প্রবাসী দুই মেয়ে তানিয়া চৌধুরী ও ত্রোপা চৌধুরীর নামে ১টি করে মোট ২টিসহ ৬টি ফ্লাট বরাদ্দের নামে দখল করা হয়েছে। অথচ এ.টি আহমেদুল হক সমিতির বৈধ কোন সদস্যই না। তিনি পুলিশের সাবেক আইজিপি ও সাবেক পিএসসি চেয়ারম্যান হয়ে ভূমিহীন, বেকার ও অসহায় সেজে প্রকৃত অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের ফ্লাট গলাদকরণ করেন। এটি শুধু অনিয়ম নয়, নৈতিকতার চরম বিপর্যয়।
সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদুল আলম দলীয় ও রাষ্ট্রীয় প্রভাব খাটিয়ে নিজের ও আত্মীয়স্বজনের নামে মোট ৫৭টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ নেন। এর মধ্যে নিজের ও স্ত্রীর নামে চারটি, শাশুড়ির নামে চারটি, শালা-শালী ও তাদের পরিবারের নামে ১০টি, ভাতিজা-ভাতিজি ও তাদের পরিবারের নামে ১২টি এবং ভাগিনা-ভাগনির নামে ১৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ঘটনা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, কীভাবে একটি কল্যাণমূলক প্রকল্প পারিবারিক ও গোষ্ঠীগত সম্পদে পরিণত হয়েছে।
একইভাবে ভূমিহীন, বেকার ও অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের ফ্লাটে ভাগ বসিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী শেখ সেলিম। তার ২ ছেলে এবং ১ মেয়ের নামে ৩টি ফ্লাট; আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী এ্যাড. কামরুল ইসলামের নামে ২টি ফ্ল্যাট, সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হকের ২ মেয়ের নামে ২ টি ফ্লাট, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাসিম ও তার ভাইয়ের নামে ৪ টি ফ্লাট, সাবেক আইন মন্ত্রী এ্যাড, আব্দুল মতিন খসরুর নামে ২টি ফ্লাট, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের ২ ছেলের নামে ২টি ফ্লাট অনিয়ম করে বরাদ্দ নিয়েছে। গোপালগঞ্জের সাবেক মেয়র কাজী লিয়াকত আলীসহ আওয়ামী ফ্যাসিস্ট এর বিভিন্ন স্তরের ২২ জন রাজনৈতিক নেতার মধ্যে ৪০ টি ফ্লাট বরাদ্দের নামে লুটপাট করা হয়েছে।
শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বই নয়, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও এই অনিয়মের বাইরে ছিলেন না। সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও একেএম শহীদুল হকসহ পাঁচজন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক, অতিরিক্ত আইজিপি ইব্রাহিম ফাতেমীসহ নয়জন অতিরিক্ত আইজিপি এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ ২৩ জন কর্মকর্তার নামে মোট ৭০টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান ও তার পরিবারের নামে চারটি, বিচারপতি নাঈমা হায়দারের নামে একটি এবং আওয়ামী সরকারের আমলের ২১ জন সচিবের নামে ২১টি ফ্ল্যাট বরা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে অন্তত ১২৯ জন ব্যক্তির নামে ২১৪টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ হয়। ফ্লাট প্রাপ্ত এসব ব্যক্তির সঙ্গে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কিংবা তাদের পরিবারের কোন সম্পৃক্ততা নাই।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো-এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললেই শুরু হয় হয়রানি। সমিতির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর যখন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করি, তখনই প্রশাসক হিসেবে আমার বিরুদ্ধে মামলা, উকিল নোটিশও সমিতির কার্যক্রম বন্ধের পাঁয়তারা শুরু করে। এমনকি সমিতির নাম মুছে দিয়ে ভিন্ন সংগঠন তৈরির চেষ্টাও করা হয়েছে যেন ইতিহাস থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের মুছে ফেলা যায়। বিজয় রাকিন সিটির গেটে সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে মনুমেন্ট হলেও সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতি রাখা হয়নি যা এক নির্মম প্রতীকী অবমাননা।
রাষ্ট্রের আরেকটি ব্যর্থতা স্পষ্ট হয় নীতিমালা লঙ্ঘনের ঘটনায়। বিএনপি সরকারের সময় প্রণীত নীতিমালায় বলা হয়েছিল-বরাদ্দপ্রাপ্ত ফ্ল্যাট ১০ বছরের মধ্যে বিক্রি করা যাবে না এবং বিক্রির ক্ষেত্রে সমিতির অনুমতি বাধ্যতামূলক। বাস্তবে এই শর্তগুলো পদ্ধতিগতভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। ফ্ল্যাট কেনাবেচা হয়েছে মুক্ত বাজারের পণ্যের মতো, আর রাষ্ট্র থেকেছে নীরব দর্শকের ভূমিকায়।
এই চিত্র শুধু একটি প্রকল্পের ব্যর্থতার গল্প নয়; এটি রাষ্ট্রীয় নৈতিকতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার গভীর সংকটকে নগ্নভাবে তুলে ধরে। যাদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রের জন্ম, তাদের প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নিয়ে প্রভাবশালীদের ভোগবিলাস নিশ্চিত করা কোনোভাবেই সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় হতে পারে না।
আজ সময় এসেছে কঠিন প্রশ্ন তোলার। বিজয় রাকিন সিটি প্রকল্পের সব বরাদ্দ ও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। অমুক্তিযোদ্ধা ও অবৈধ বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই করে তাদের ন্যায্য ফ্ল্যাট ফিরিয়ে দিতে হবে। অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধা আবাসন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এই ইতিহাস বারবার কলঙ্কিত হবে।
মুক্তিযোদ্ধারা এই দেশের স্বাধীনতার অংশিদার ও অনুঘটক। তাদের বঞ্চনা মানে স্বাধীনতার অপমান। এই অপমানের শেষ কোথায়? সে প্রশ্ন আজ জাতির বিবেকের সামনে। যদি এখনই ন্যায়বিচার না হয়, তবে ইতিহাস একদিন কঠোর ভাষায় আমাদের বিচার করবে। তখন আর কোনো মনুমেন্ট, কোনো শ্লোগান আমাদের দায়মুক্ত করতে পারবে না।
মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, প্রশাসক, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতি।
সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটি।













