ঢাকা,  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিল পাস

ভারতসহ ১০টি দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ঝুঁকি

বিদেশ

বিদেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩১, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতসহ ১০টি দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ঝুঁকি

ছবি: সংগৃহিত

রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে একটি বিস্তারিত নিষেধাজ্ঞা বিল পাস হয়েছে। ‘Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026’ নামের বিলটি বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যাবে। তিনি স্বাক্ষর করলে এটি আইনে পরিণত হবে।

বিলটির সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, রাশিয়া থেকে বড় পরিমাণে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া। এর ফলে রাশিয়ার অন্যতম বড় জ্বালানি ক্রেতা ভারতসহ কয়েকটি দেশ মার্কিন বাজারে অতিরিক্ত শুল্কের ঝুঁকিতে পড়েছে। চীনও সম্ভাব্যভাবে এই ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে। মোট ১০টি দেশের উপর যুক্তরাষ্ট্র এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। দেশগুলো হলো- ভারত, চীন, হাঙ্গেরি, আজারবাইজান, তুরস্ক, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান।

প্রতিনিধি পরিষদের ভোটে বিলটির পক্ষে ২৬২ জন এবং বিপক্ষে ১৫৯ জন সদস্য ভোট দেন। এর আগে গত ৭ আগস্ট মার্কিন সিনেটেও বিলটি ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়েছিল।

বিল অনুযায়ী, রাশিয়ার জ্বালানি পণ্য ক্রয় অব্যাহত রাখা বা রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের সুযোগ থাকবে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট দেশগুলোর পণ্যে শূন্যের বেশি থেকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক নির্ধারণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার পণ্য, রুশ কর্মকর্তা, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত ‘শেডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও নতুন নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে।

বিলটির প্রাথমিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। দীর্ঘ আলোচনার পর গত আগস্টে সিনেটে বিলটি পাস হয়। গ্রাহাম ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মারা যান; পরে তার নামেই বিলটির নামকরণ করা হয়।

প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর এখন বিলটির পরবর্তী ধাপ প্রেসিডেন্টের অনুমোদন। ট্রাম্প স্বাক্ষর করলে বিলটি আইনে পরিণত হবে এবং এরপর সংশ্লিষ্ট বিধান বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

বিলটির পক্ষে থাকা মার্কিন আইনপ্রণেতাদের বক্তব্য, এর মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি আয়ের ওপর চাপ বাড়িয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়ন কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী কিছু আইনপ্রণেতা অতিরিক্ত শুল্কের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব এবং প্রেসিডেন্টের হাতে বিস্তৃত শুল্ক ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সূত্র: এপি, রয়টার্স, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটি