ঢাকা,  মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫,

১৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে এআই বাজার চাহিদা

তথ্যপ্রযুক্তি

গণবাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৫০, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

১৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে এআই বাজার চাহিদা

ফাইল ছবি

কল্পবিজ্ঞানের গল্পে যে প্রযুক্তি একসময় সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন প্রতিদিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্মার্টফোনের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে শুরু করে চিকিৎসা নির্ণয়, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য এমনকি শিল্পকলা পর্যন্ত– সর্বত্রই এআই তার কাজের পরিধি ও দক্ষতা ছড়িয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মেশিন লার্নিং ও ডিপ লার্নিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এআই বিপুল পরিমাণ ডেটা বিশ্লেষণ করে, প্যাটার্ন খুঁজে বের করে এবং নিজে নিজে শিখে নিজেকে এগিয়ে রাখে। মানব মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্কের অনুকরণে তৈরি কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক এআই প্রযুক্তিকে করে তুলেছে অপ্রতিরোধ্য আর দক্ষ।

বহুমুখী প্রয়োগ

স্বাস্থ্যসেবায় এআই এখন ক্যান্সার শনাক্ত, এক্স-রে এবং এমআরআই বিশ্লেষণ, ওষুধ আবিষ্কার ও চিকিৎসা পরিকল্পনায় সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। গবেষণা বলছে, কিছু ক্ষেত্রে এআই মানব চিকিৎসকের চেয়েও নির্ভুল রোগ শনাক্ত করতে পারে। শিক্ষায় পরিকল্পনা, স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন, ভার্চুয়াল টিউটর ও ভাষা শিক্ষায় এআই নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শিক্ষার্থীরা এখন এআই পরিচালিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিজের মতো করে প্রশিক্ষিত হতে পারছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গ্রাহক বিশ্লেষণ, বাজার পূর্বাভাস, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, স্বয়ংক্রিয় গ্রাহকসেবা ও বিক্রয় বাড়াতে এআই সব প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার সুযোগ করে দিচ্ছে।

কৃষিতে ফসলের রোগ শনাক্ত, আবহাওয়া পূর্বাভাস, স্মার্ট সেচ ব্যবস্থা ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে এআই বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর দেশের জন্য দারুণ সহায়ক। পরিবহন ক্ষেত্রে স্বনিয়ন্ত্রিত গাড়ি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও ভূমিকা রাখতে পারবে।

বাংলাদেশে এআই

বাংলাদেশে ক্রমে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দৃশ্যমান হচ্ছে, বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে জালিয়াতি শনাক্ত, টেলিকম খাতে গ্রাহক পরিষেবা, ই-কমার্সে পণ্য সুপারিশ ও স্বাস্থ্যসেবায় রোগ নির্ণয়ে এ প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে।

অনেক প্রযুক্তি কর্মকর্তা বলছেন, আমরা এআই পরিচালিত চ্যাটবট ব্যবহার করে সারাক্ষণ হাজারো গ্রাহককে সেবা দিচ্ছি। এতে গ্রাহকসেবার মান যেমন বেড়েছে, তেমনি খরচও কমেছে অনেকাংশে।

তিন স্তর

মূলত এআই প্রযুক্তি তিনটি স্তরে কাজ করে। একটি ন্যারো এআই, যা নির্দিষ্ট কাজে দক্ষ। দ্বিতীয়টি জেনারেল এআই, যা মানুষের মতো যে কোনো কাজ করতে পারে। তৃতীয়টি সুপার এআই, যা মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমত্তায় এগিয়ে। আমরা এখন মূলত ন্যারো এআই ধাপে রয়েছি।

ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ

অভূতপূর্ব উন্নতির সঙ্গে এআই নিয়ে কিছু উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চাকরির বাজারে পরিবর্তন ও বিপুল কর্মসংস্থান হ্রাসের শঙ্কা সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম বলছে,
২০৩০ সালের মধ্যে সারাবিশ্বে আট কোটি চাকরি কমে যেতে পারে, যার নেপথ্যে কাজ করছে এআই। ব্যক্তি-তথ্যের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও ডেটার যথেচ্ছ ব্যবহারের ঝুঁকি থাকছেই।অন্যদিকে, এআই সিস্টেমে পক্ষপাতিত্ব, নৈতিক প্রশ্ন ও সাইবার নিরাপত্তা হুমকি রয়েছে সর্বত্র।

বাংলাদেশের প্রস্তুতি

বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণের লক্ষ্যে এআই প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এআই নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করেছে। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সব স্টার্টআপ এখন এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাধান খুঁজছে। দক্ষ জনশক্তির অভাব, অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, বিনিয়োগের ঘাটতি ও অপর্যাপ্ত গবেষণা বাংলাদেশের এআই উন্নয়নে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দশকে এআই বিশেষ ক্ষমতাধর ও সর্বব্যাপী হয়ে উঠবে। জেনারেটিভ এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং সমন্বিত এআই ও মানবিক এআই সিস্টেম জীবনযাত্রার ধারণা সমূলে বদলে দেবে। আইসিটি বিশ্লেষক সংস্থা গার্টনার বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এআই বাজার পৌঁছাবে ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারে।

সুবিশাল এই বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে প্রয়োজন সুচিন্তিত পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন। আইসিটি গবেষক তৌহিদুর রহমান বলেন, ধারণা বদলে দেওয়া মাধ্যম হচ্ছে এআই। যার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে তা মানবকল্যাণে প্রয়োগ করার দায়িত্ব রয়েছে।