ঢাকা,  শনিবার, ১৬ মে ২০২৬,

খালি হাতেই চীন ছাড়লেন ট্রাম্প? অর্জন কি কেবল এক ব্যাগ ফুলের বীজ

বিদেশ

বিদেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:৪৬, ১৫ মে ২০২৬

খালি হাতেই চীন ছাড়লেন ট্রাম্প? অর্জন কি কেবল এক ব্যাগ ফুলের বীজ

ছবি: সংগৃহিত

নিজেকে ‘মাস্টার নেগোশিয়েটর’ বা দরকষাকষির কারিগর হিসেবে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তিন দিনের চীন সফর শেষে তার ঝুলিতে এক ব্যাগ ফুলের বীজের প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর বড় কোনও অর্জনই নেই।

শুক্রবার বেইজিংয়ের পবিত্র ঝংনানহাই মন্দির পরিদর্শন করেন ৭৯ বছর বয়সী মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি কিছু ফুলের প্রশংসা করলে চীনা নেতা শি জিনপিং তাকে সেই ফুলের বীজ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন। এই সফরকে ট্রাম্প ‘অবিশ্বাস্য’ বলে বর্ণনা করলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি বা কূটনৈতিক সাফল্য ছাড়াই বেইজিং ছেড়েছেন তিনি। তাইওয়ান ইস্যু থেকে শুরু করে খনিজ সম্পদ, কোনও ক্ষেত্রেই চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেননি তিনি। উল্টো মার্কিন কৃষকদের স্বার্থ বিসর্জন এবং একটি অস্পষ্ট চুক্তির মাধ্যমে বোয়িংয়ের শেয়ার বাজারে ধস নামিয়ে ফিরেছেন তিনি।

সফরের মূল লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তি, শুল্ক ছাড় ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় কোনও চুক্তি করা। কিন্তু ট্রাম্প তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সফরের আগে তার সঙ্গে এয়ারফোর্স ওয়ানে করে টেসলা ও স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াংয়ের মতো টাইটানরা এলেও কোনও বড় বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।

এনভিডিয়ার শক্তিশালী এইচ২০০ এআই চিপ চীনে বিক্রির অনুমোদন দিলেও বেইজিং এখন পর্যন্ত কোনও চিপ কেনেনি। বরং তারা হুয়াওয়ের মতো দেশীয় পণ্য ব্যবহারের দিকেই ঝুঁকছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, শি জিনপিং ২০০টি বোয়িং বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘বোয়িং চেয়েছিল ১৫০টি, আমি ২০০টি আদায় করেছি।’ তবে চীন সরকার এখন পর্যন্ত এই অর্ডারের কথা জনসমক্ষে নিশ্চিত করেনি। উপরন্তু, ৫০০টি বিমান বিক্রির যে গুঞ্জন ছিল, তার তুলনায় এই সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় বোয়িংয়ের শেয়ার দর ৪.১ শতাংশ পড়ে গেছে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, দুই দেশ ৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য একটি বোর্ড অব ট্রেড গঠন এবং কৃষিপণ্য নিয়ে একটি অমীমাংসিত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করছে।

বৈদ্যুতিক গাড়ি ও আধুনিক সামরিক সরঞ্জামের জন্য অপরিহার্য বিরল খনিজ সম্পদের বাজার চীনের নিয়ন্ত্রণে। এই নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার বিষয়ে কোনও প্রতিশ্রুতি আদায় করতে পারেননি ট্রাম্প। উল্টো চীন আগামী নভেম্বরে রফতানিতে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে শি জিনপিং ইরানকে অস্ত্র না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন, চীন ইরানের বড় তেলের গ্রাহক এবং তারা সেই বাণিজ্য বজায় রাখতে চায়।

তাইওয়ান ইস্যুতে শি জিনপিং ছিলেন অত্যন্ত কঠোর। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাইওয়ান প্রশ্ন চীন-মার্কিন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এখানে সামান্য ভুল হলেই দুই দেশ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। ট্রাম্পের দাবি, শি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে রক্ষা করবে কি না, কিন্তু তিনি কোনও উত্তর দেননি।

হংকংয়ের গণতন্ত্রকামী নেতা জিমি লাইয়ের মুক্তির বিষয়েও ট্রাম্প কোনও সুবিধা করতে পারেননি। উল্টো চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন লাইকে ‘উস্কানিদাতা’ হিসেবে বর্ণনা করে তার ২০ বছরের কারাদণ্ডের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন।

সফর শেষে এয়ারফোর্স ওয়ান বেইজিং ছাড়ার এক ঘণ্টার মাথায় ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শুরু করেন। তবে তা কূটনীতি নিয়ে নয়, বরং ওয়াশিংটন ডিসি-কে চীনের মতো সাজানো নিয়ে। তিনি লিখেছেন, ‘চীনের একটি বলরুম আছে, আমেরিকারও তেমন থাকা উচিত!’

কোনও দৃশ্যমান জয় ছাড়াই ফিরলেও ট্রাম্প হয়তো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে তিনি শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বিদায়বেলায় ট্রাম্প বলেন, ‘আশা করি আপনি (শি জিনপিং) মুগ্ধ হয়ে ফিরবেন, যেমনটা আমি চীন দেখে মুগ্ধ হয়েছি।’

সূত্র: দ্য ডেইলি বিস্ট