ছবি: সংগৃহিত
ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীরা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। বন্দরনগরী এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রাণঘাতী হামলার এক দিন পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ হামলার ঘটনা ঘটে। খবর আল জাজিরার।
ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-ইরিয়ানি বলেন, শুক্রবার বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি এমন একটি উড়োজাহাজ থেকে ৫০০ মিটার দূরে পড়ে, যেটি উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, উড়োজাহাজটির সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে আছেন। সম্ভাব্য ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় এড়ানোয় সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বিমানবন্দরে হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।
তবে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিরা এক সামরিক সূত্রের বরাতে দেওয়া বিবৃতিতে শুক্রবার এডেন প্রদেশের বদর শিবিরে সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদরদপ্তর এবং একটি অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সদর দপ্তর এডেন। সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরানপন্থি হুথিদের মধ্যে নতুন করে তীব্র হওয়া গৃহযুদ্ধের মধ্যে শহরটিতে সর্বশেষ হামলার ঘটনা ঘটল।
এর আগে শুক্রবার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানায়, রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মারিব প্রদেশে তাদের সেনারা অগ্রসর হয়েছেন।
সামরিক মুখপাত্র মাজেদ আল-নাজিলি বলেন, বিমান সহায়তায় সরকারি বাহিনী প্রদেশটির পূর্বাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলো সুরক্ষিত করেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনি বাহিনী ৪৩০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করেছে। একই সময়ে হুথিদের শতাধিক যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা অকার্যকর করা হয়েছে।
যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রণাঙ্গনে পরিণত হওয়া তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী হুথিদের বেশ কয়েকটি বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে। এতে হুথিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
তাইজ এলাকায় হুথিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত ড্রোন পরিচালনাকারী একটি দলকে আটক করার দাবিও করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী।
গত কয়েক সপ্তাহে হুথি বাহিনী ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজকে ঘিরে ফেলেছে। শহরটির দক্ষিণে এডেনের সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেওয়ায় ব্যাপক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা






















