ছবি: সংগৃহিত
ম্যাচটি ছিল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর টিকে থাকার। কিন্তু হলো না। কান্নায় শেষ হলো তার বিশ্বকাপ। তার মঞ্চে সব আলো কেড়ে নিলেন মিকেল মেরিনো। শেষ মুহূর্তে আবারও স্পেনের ত্রাতা তিনি।
২০২৪ সালের ইউরোতে জার্মানির বিপক্ষে নাটকীয় গোল করা আর্সেনাল মিডফিল্ডার এবার বিশ্বকাপে ভেঙে দিলেন পর্তুগালের স্বপ্নও। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে করা তার ওই গোলেই কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন। ১-০ গোলের এ হারে শেষ হয়ে গেল রোনালদোর বিশ্বকাপও।
সুপার সাব মিকেল মেরিনো। তার গোলেই এগিয়ে গেল স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে জাল খুঁজে নেন তিনি।
ফ্রি-কিক থেকে ছোট পাসে খেলা শুরু করে স্পেন। ফাবিয়ান রুইস বল পৌঁছে দেন ফেরান তোরেসের কাছে। বক্সের কোনায় দারুণ টার্ন নিয়ে তোরেস নিখুঁত থ্রু পাস বাড়ান মেরিনোর উদ্দেশে। একা গোলরক্ষকের সামনে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় কাছের পোস্ট ঘেঁষে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। আর সেই গোলেই বিদায়ের প্রহর গুনতে শুরু করেন রোনালদো।
লামিন ইয়ামালকে সুবিধা করতে দিচ্ছিলেন না নুনো মেন্দেস। বারবার আটকে দিচ্ছিলেন। কিন্তু পর্তুগালের জন্য দুঃসংবাদ। ৫৫ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন এই লেফটব্যাক।
হ্যামস্ট্রিং বা পেশিতে টান লেগেছে বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মেন্দেসের চোট পর্তুগালের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। তার জায়গায় মাঠে নেমেছেন নেলসন সেমেদো।
স্পেনের গোছানো ফুটবলের সামনে ঠিক সুবিধা করতে পারছিল না পর্তুগাল। শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে লা রোহারা। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে নিজেদের গুছিয়ে নেয় পর্তুগিজরা। বিরতির আগে বেশ কয়েকবার কাঁপিয়ে দিয়েছে স্পেনের রক্ষণ, একবার কাঁপিয়েছে ক্রসবারও।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের খেলায় অবশ্য প্রথমার্ধে কোনো দলই গোল পায়নি। গোলশূন্য স্কোরলাইন নিয়ে বিরতিতে গেছে দল দুটি।
ক্রসবারে আটকা পড়ল পর্তুগাল। ৪১তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল তারা। কিন্তু নুনো মেন্দেসের বুলেট গতির শট কাঁপিয়ে দিল বার।
কর্নার থেকে নেওয়া ছোট পাসে কিছুটা অসতর্ক হয়ে পড়ে স্পেনের রক্ষণভাগ। সেই সুযোগে বক্সের বাইরে থেকে বজ্রগতির শট নেন মেন্দেস। পেদ্রো পোরোর গায়ে লেগে দিক বদলে ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে। অল্পের জন্য গোলবঞ্চিত পর্তুগাল। মেন্দেসের শক্তিশালী শটটি স্পেনের রক্ষণে বড়সড় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
৩৭তম মিনিটে গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিল পর্তুগাল। ডান প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত দৌড়ে উঠে নিখুঁত ক্রস করেন পেদ্রো নেতো। পেছনের পোস্টে থাকা জোয়াও ফেলিক্স হেডে বলটি গোলমুখে ফিরিয়ে দেন। সেখানে অ্যাক্রোবেটিক ভঙ্গিতে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন রোনালদো।
তবে তার শটে খুব একটা জোর ছিল না। বলটি গোলের দিকে গেলেও স্পেনের গোলকিপার উনাই সিমন সেটি নিরাপদে তালুবন্দি করেন। আর কোনো বিপদ হলেও গোললাইনেই ক্লিয়ার করতে প্রস্তুত ছিলেন আয়মেরিক লাপোর্তে।
আবারও হতাশায় পুড়লেন স্পেনের সমর্থকরা। এবার দু-দুবার তাদের হতাশ করলেন পর্তুগিজ গোলকিপার ডিয়েগো কোস্তা।
১৬তম মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন লামিন ইয়ামাল। বার্সেলোনা ফরোয়ার্ডের বাঁ পায়ের বাঁকানো শট প্রথম দফায় ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন পর্তুগিজ স্টপার। ফিরে আসা বল পেয়ে যান আলেক্স বায়েনা। তার নেওয়া ডান পায়ের জোরালো শট আবারও একইভাবে ঠেকিয়ে দেন কোস্তা।
৮ মিনিটে সহজ সুযোগ নষ্ট করলেন মিকেল ওয়ারসাবাল। দুর্দান্ত এক দলীয় আক্রমণে পর্তুগালের রক্ষণভাগ চিরে এগিয়ে যায় স্পেন। মাঝমাঠ থেকে দানি ওলমোর নিখুঁত পাস পেয়ে গোলের সামনে একা ওয়ারসাবাল। কিন্তু গোল করতে পারলেন না।
প্রথমে মনে হয়েছিল তিনি অফসাইডে ছিলেন, কিন্তু রিপ্লেতে দেখা যায় তিনি অনসাইডে। আশপাশে তাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো কোনো পর্তুগিজ ডিফেন্ডারই ছিলেন না। এরপরও বল দূরের পোস্ট দিয়ে মারলেন বাইরে। এগিয়ে যাওয়া হলো না স্পেনের।
সেই ম্যাচটি আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন। রোমাঞ্চে ভরপুর লড়াইটি ৩-৩ গোলে ড্র হয়েছিল। ম্যাচে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, যার মধ্যে ছিল শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য এক ফ্রি-কিক গোল। আবারও মুখোমুখি দুই দল। তাহলে কি অপেক্ষা করছে আরেকটি ৬ গোলের রুদ্ধশ্বাস লড়াই?
এই ম্যাচের আগেও রোনালদোকে নিয়ে কথা হয়েছে অনেক। এই তারকাকে পর্তুগাল একাদশে রাখা উচিত কিনা, এ নিয়ে নানা মুনির নানা মত। তাই স্পেন ম্যাচে তার পারফরম্যান্স থাকবে আতশী কাঁচের নীচে।
এ পর্যন্ত ৪ ম্যাচে তিনি শট নিয়েছেন ৭টি, গোল করেছেন ৩টি, কোনো অ্যাসিস্ট নেই। এই হলো এবারের বিশ্বকাপে পর্তুগীজ তারকার অবদান।













