ছবি: সংগৃহীত
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। আন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রীসভায় এটিই প্রথম কোনো পদত্যাগ।
শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, ‘যন্তর মন্তরসহ দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলো যাতে এর সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন বজায় থাকে, ভারতের একটি ছাত্রের ভবিষ্যতও যেন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনায় সময় দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিতে পারে এসব কথা মাথায় রেখে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, আবেগ এবং তাদের ন্যায়সংগত প্রত্যাশাকে গভীর সম্মান করি। প্রথম দিন থেকেই আমি এই পরিস্থিতির (পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস) দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়েছি। গত ৩ মে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম দেখা দেওয়ার পর সরকার অবিলম্বে তা গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং তদন্তের দায়িত্ব সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার সংকল্প ছিল যে পরীক্ষা মাফিয়াদের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেব না, কারও সঙ্গে অন্যায় হতে দেব না। কিন্তু এই সময়েও দায়িত্বশীল পদে থাকা অনেক ব্যক্তি সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন, যা আমার মনকে অত্যন্ত ব্যথিত করেছে।’
ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তার দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের সেবা করার যে সুযোগ পেয়েছিলেন, সে জন্য তিনি চিরকৃতজ্ঞ।
ডাক্তারি ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’ প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লি-কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নরেন্দ্র মোদি সরকার বারবার তাদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় ছিল ককরোচ জনতা পার্টিসহ বিক্ষোভকারীরা।
কংগ্রেসসহ সব বিরোধী দলও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলেছিল। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে অনশন শুরু করেছিলেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। ২৬ দিন পর গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি সেই অনশন ভাঙেন।
এরপর আজ শনিবার কেন্দ্রের সঙ্গে টানা তৃতীয় দফা আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সিজেপি বলেছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না। অবশেষে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণা এলো।













