ছবি: সংগৃহিত
খুলনা বিভাগে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা এবং আক্রান্তের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিভাগে নতুন করে ৭৬ জন সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলায় হামের উপসর্গে আরও একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে ৭ মাসে হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের দৈনিক তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৭৬ জন রোগী। তবে একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৩০ জন। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত বিভাগজুড়ে সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫১১ জনে। এদের মধ্যে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে ১৪ হাজার ৭৪ জনকে এবং সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১৩ হাজার ৫৮৩ জন।
এদিকে, গত সাত মাসে বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে শুধু খুলনা জেলায়। এ ছাড়া কুষ্টিয়ায় ১৬ জন, ঝিনাইদহে ৫ জন এবং চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে একজন করে মারা গেছেন। এই সময়ে পুরো বিভাগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মোট ৪৫৮ জনের দেহে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
বিভাগের ১০টি জেলার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কুষ্টিয়া, খুলনা ও মাগুরা জেলায় হামের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ১৫ মার্চ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলায় বিভাগের সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৪৯ জন সন্দেহজনক এবং ২৩ জন নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে। খুলনা জেলায় সন্দেহজনক রোগী ২ হাজার ৬৬৭ জন এবং নিশ্চিত রোগী ৫৬ জন।
অন্যদিকে, মাগুরা জেলায় সন্দেহজনক রোগী ২ হাজার ১৯৮ জন হলেও সেখানে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০১ জন। এছাড়া বাগেরহাটে ৭৪, যশোরে ৫৮, সাতক্ষীরায় ৩৪, নড়াইলে ৮৫, ঝিনাইদহে ১৭, মেহেরপুরে ১০ এবং চুয়াডাঙ্গায় ৭৩২ জন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।






















