ঢাকা,  সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ,

জোটে গেলেন নওয়াজ, ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্ররা এখন কী করবেন

জোটে গেলেন নওয়াজ, ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্ররা এখন কী করবেন

ফাইল ছবি

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনের ফলে এগিয়ে আছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সমর্থিত প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ৪২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়নি।

তবে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগেই পিএমএল-এন প্রধান নওয়াজ শরিফ বিজয় ভাষণ দিয়ে দিয়েছেন। ওই ভাষণে তিনি জোট সরকার গঠনের ইঙ্গিত দেন। তবে পিটিআইসমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কী করবেন বা তাদের অবস্থান কোথায়, তা এখনো জানা যায়নি।

২৬৫ আসনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ২৫১ আসনের প্রাথমিক ফলে ইমরানের দল পিটিআইসমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই সবচেয়ে বেশি আসনে জয়ী হয়েছেন। 

আসন সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল–এন। তৃতীয় স্থানে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পিপিপি। ইতোমধ্যে পিএমএল-এনের সঙ্গে জোট গঠনের ঘোষণা পিপিপির। 

তবে নির্বাচনি সাফল্যের পরও পিটিআই এখনো সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। কারণ এবারের নির্বাচনে তারা ব্যাট প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি পায়নি। তাদের শীর্ষ নেতা ইমরান খান একের পর এক মামলায় কারাগারে আছেন। এর মানে হলো— প্রার্থীরা যদি সর্বোচ্চসংখ্যক আসনে জয়ীও হন, তবুও দলটি হয়তো সরকার গঠন করতে পারবে না। 

কারণ সংখ্যালঘুদের জন্য নির্ধারিত আসনে তাদের জন্য কোটা বরাদ্দ থাকবে না। তা হলে পিটিআইয়ের সামনে এখন কোন পথ খোলা আছে? এ নিয়ে কয়েকজন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়েছিল ডন। তার ভিত্তিতে কিছু প্রশ্নের জবাব খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে।

ইমরানপন্থি স্বতন্ত্ররা জাতীয় পরিষদে না এলে কী হবে

সাংবাদিক উসাতুল্লাহ খান মনে করেন, ইমরানপন্থি স্বতন্ত্ররা যদি এমন সিদ্ধান্ত নেন, তবে তা তাদের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না।

তারা এমনটা আগেও করেছেন এবং আপনারা দেখেছেন, তাদের সঙ্গে কী হয়েছে। গতবার তারা যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তাতে আমার মনে হয় না, এবার তারা আবারও ঝুঁকি নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
তার ধারণা, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মিলে একটি দল গঠনের চেষ্টা করবেন। এর নাম হতে পারে ইনসাফ বা অন্য কোনো কিছু।

স্বতন্ত্ররা কি নিজেদের পিটিআই সদস্য দাবি করতে পারবেন

আইনজীবী আবদুল মইজ জাফেরি বলেন, নির্বাচনে পিটিআই তাদের প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি পায়নি, কিন্তু দলটিকে তো আর নির্বাচনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। পিটিআই একটি বৈধ রাজনৈতিক দল। এ ক্ষেত্রে পিটিআইসমর্থিত প্রার্থী সালমান আকরাম রাজার প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি। নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা না করে পিটিআই দলের প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সুপ্রিমকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন রাজা। 
আবেদনে রাজা আরও যুক্তি দেখিয়েছেন, পিটিআইকে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া না হলেও দলটির অস্তিত্ব ও কর্মকাণ্ডের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়েনি। দলটি বিলুপ্ত হয়ে যায়নি।

স্বতন্ত্ররা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করতে পারবেন কি

সাংবাদিক শাহজেব জিলানি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে কোনো দলকে সমর্থন করবেন, নাকি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কোনো দলে যোগ দেবেন, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তারা তিন দিন সময় পাবেন।
শাহজেব জিলানি বলেন, পিটিআইসমর্থিত স্বতন্ত্ররা যদি পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ পক্ষ হতে চান, তবে তাদের বিদ্যমান কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে মজলিশ ওয়াহদাত-ই-মুসলিমিনের (এমডব্লিউএম) নাম শোনা যাচ্ছে, যেটি একটি নিবন্ধিত দল। 

এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই দুই দল জোট গঠন করেছিল। পিটিআইসমর্থিত স্বতন্ত্ররা যদি দলটিতে যোগ দেন, তবে তারা সংরক্ষিত আসনগুলোও পাবেন এবং তাদের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে। এর পর তারা পার্লামেন্টের নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতায় নামতে পারেন।