ঢাকা,  রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬,

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িতে ঢুকে গুলি, শিশুসহ নিহত ৯

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িতে ঢুকে গুলি, শিশুসহ নিহত ৯

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরি শহরে বন্দুকধারীর গুলিতে শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বাড়ির বাইরে গুলি চালানোর পর ভেতরে ঢুকে হামলা চালান ওই ব্যক্তি। পরে সন্দেহভাজন হামলাকারীকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জনসাধারণের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি নেই। হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে গুলির শব্দ শুনে একটি বাড়িতে তাদের ডাকা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা কর্তৃপক্ষকে জানান, এক বন্দুকধারীকে বাড়ির বাইরে দেখা গিয়েছিল। পরে তিনি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ বাড়ির বাইরের রাস্তায় দুই নারীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। গুলিতে তাদের মৃত্যু হয়েছিল।

এরপর পুলিশ ও বিশেষ দল বাড়িটি ঘিরে ফেললে পরিস্থিতি অচলাবস্থায় রূপ নেয়। বাড়ির ভেতর থেকে আরও গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে পুলিশ বাড়িতে প্রবেশ করে। সেখানে আরও সাতজনের মরদেহ পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে শিশুও ছিল। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহও উদ্ধার করা হয়।

তদন্তকারীদের ধারণা, নিজের ছোড়া গুলিতেই হামলাকারীর মৃত্যু হয়েছে।

ইরি শহরের পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ এ হত্যাকাণ্ডকে তার দেখা সবচেয়ে মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলোর একটি বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা যে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি, তা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। বর্তমানে আমরা নিশ্চিত করতে পারি, সন্দেহভাজন ব্যক্তি মারা গেছেন। আমাদের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, জনসাধারণের জন্য আর কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই।

তিনি আরও বলেন, নিহত ব্যক্তিদের, তাদের পরিবার এবং এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি আমাদের সমবেদনা। এখানে যে প্রাণহানি ঘটেছে, তার ব্যাপকতা প্রকাশ করার মতো কোনো শব্দ নেই।

শনিবারও হত্যাকাণ্ডের পরিস্থিতি ও কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছিল কর্তৃপক্ষ। কেন এ হামলা চালানো হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

ইরি শহর কর্তৃপক্ষও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে ঘটনাটিকে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি উল্লেখ করে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ খবর শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক ও বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। তবে গুলির ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের বন্দুক সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, ইরির এ হত্যাকাণ্ড চলতি বছরে দেশটিতে অন্তত ১৯তম গণহত্যার ঘটনা। সংস্থাটির সংজ্ঞা অনুযায়ী, চার বা তার বেশি মানুষকে হত্যা করা হলে সেটিকে গণহত্যা হিসেবে গণ্য করা হয়।

এ ধরনের অনেক ঘটনায় হামলাকারী নিজের পরিবারের একাধিক সদস্যকে হত্যা করেন। এ ধরনের ঘটনাকে পারিবারিক হত্যাযজ্ঞ বলা হয়।

সংস্থাটির হিসাবে, জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৫০০টির বেশি নির্বিচার গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চার বা তার বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হন, তারা মারা যান বা বেঁচে থাকেন দুই ক্ষেত্রই এর অন্তর্ভুক্ত।

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই বন্দুক হামলা বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। এ ধরনের ঘটনার পর দেশজুড়ে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ফেডারেল আইন প্রণয়নের দাবি জোরালো হয়। তবে বছরের পর বছর ধরে এমন দাবি উঠলেও কংগ্রেস এ ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর করেনি।

তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান