ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য সারাদেশের ৩০০ আসনের বিপরীতে দুই হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। প্রতি আসনে গড়ে প্রার্থীর সংখ্যা ৮ দশমিক ৬। যদিও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল তিন হাজার ৪০৭টি। গতকাল সোমবার রাতে এ তথ্য জানায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে কতটি দলের প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, কোন আসনে কতজন প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা কত– এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি ইসি।
সমকাল প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ১২৫টি সংসদীয় আসনের তথ্য বিশ্লেষণ করতে পেরেছে। এতে বিএনপির প্রার্থী সংখ্যা ১২২। তার মধ্যে ৫২টি আসনে দলটির মনোনয়নের বাইরে বা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ৮৫ জন নেতা। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১০৬টি আসনে। জুলাই অভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে ১৬টি আসনে। অন্যান্য দলের প্রার্থীর সংখ্যা ৩৬৫। এ ছাড়া ৫০ আসনে দলীয় পরিচয়ের বাইরে ১০৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ১২৫ আসনের মধ্যে ১১টিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ব্যক্তিরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া ২ আসনে চারজন জাতিগত সংখ্যালঘু এবং ৮টি আসনে ৯ জন নারী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী গতকাল সোমবার ছিল মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার শেষ দিন। আজ ৩০ ডিসেম্বর থেকে আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত জমা হওয়া মনোনয়নপত্রগুলো বাছাই করা হবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা ছিল এক হাজার ৯৭০ জন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা ছিল এক হাজার ৮৬৫ জন। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি, তাদের পুরোনো জোট শরিক জামায়াত ইসলামী, জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র নেতাদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি, চরমোনাইর পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ইসির নিবন্ধিত ৪৮টি দল এবার নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে। নিবন্ধিত ১১টি দল এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।
নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে টানা চারবার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দল আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় এবার নির্বাচনে নেই। যদিও শেষের তিন নির্বাচন ছিল বিতর্কিত। তাদের মিত্র দল জাতীয় পার্টি (জি এম কাদের) ২৩২ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিলেও কতটি জমা পড়েছে সেই হিসাব গতকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
বিএনপি তাদের মিত্রদের ৯টি আসন ছেড়ে বাকি ২৯১ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। এর মধ্যে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার তিন আসনসহ বেশ কয়েকটি আসনে বিকল্প প্রার্থীও দেওয়া হয়েছে। অনেক স্থানে দলের মনোনীত প্রার্থীর পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষেও জমা দিয়ে রাখা হয়েছে বিকল্প মনোনয়ন।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিবন্ধন ফিরে পাওয়া জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে তার শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতায়। তবে তারাও প্রায় ২২৩ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে ৩০ আসনে সমঝোতা হলেও এনসিপি জমা দিয়েছে ৪৭ আসনে। আরেক সমমনা চরমোনাইর পীরের দলও ২৭২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে; যদিও জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় তারা পেয়েছ ৩১টি আসন। সারাদেশে দুই হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়লেও বাছাইয়ের পরে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো এক আসনে একজন প্রার্থী রেখে বাকিগুলো প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। এজন্য আগামী ২০ জানুয়ারি দিন ধার্য রাখা হয়েছে তপশিলে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী টানাপোড়েন ও দেশের বিভিন্ন স্থানে দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। গত ১১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে তপশিল ঘোষণা করেন। এরপর দিনেই ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি রাজধানীতে গণসংযোগকালে গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় রাজনৈতিক দল ও তাদের প্রার্থী-সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুরো মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি।
গতকাল দিনভর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরে রাতে ইসি সচিবালয় থেকে জানানো হয়, সারাদেশের ৩০০ আসনে দুই হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এরমধ্যে রংপুরের ৩৩টি আসনের বিপরীতে ২৭৮টি, রাজশাহীর ৩৯টি আসনের বিপরীতে ২৬০টি, খুলনার ৩৬টি আসনের বিপরীতে ২৭৬টি, বরিশালের ২১টি আসনের বিপরীতে ১৬৬টি, ফরিদপুরের ১৫টি আসনের বিপরীতে ১৪২টি, ঢাকার ৪১টি আসনের বিপরীতে ৪৪৪টি, ময়মনসিংহে ৩৮টি আসনের বিপরীতে ৩১১টি, সিলেটের ১৯টি আসনের বিপরীতে ১৪৬টি, কুমিল্লার ৩৫টি আসনের বিপরীতে ৩৬৫টি এবং চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের বিপরীতে ১৯৪টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, এর আগে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪৪টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ২৮টি দল অংশ নেয়। নির্বাচন বর্জন করে বিএনপিসহ ১৬টি দল। তখন জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ছিল না। ডামি নির্বাচন হিসেবে পরিচিত পাওয়া ওই নির্বাচনে সারাদেশের ৩০০ আসনে এক হাজার ৯৭০ জন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী এক হাজার ৫৩৪ জন এবং স্বতন্ত্র ছিলেন ৪৩৬ জন। দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৬৬ জন প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগের। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন ২৬৫ জন। আর ১৩৫ জন প্রার্থী ছিলেন ‘সোনালী আঁশ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া তৃণমূল বিএনপির।
রাতের ভোট হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৩৯টি নিবন্ধিত দলের সবাই অংশ নেয়। তখন জামায়াতের নিবন্ধন না থাকলেও বিএনপি দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে ২০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এই নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিলেন এক হাজার ৮৬৫ জন।
গত কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন দলের প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমার সময়সীমা বাড়ানোর গুঞ্জন ছিল। তবে গতকাল বিকেল শেষে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন, মনোনয়নপত্র জমার সময়সীমা বাড়ছে না।
এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর ভোটের তপশিল ঘোষণার পর থেকে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমার কার্যক্রম শুরু করেন। এ নিয়ে সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শেষ দিনে কয়েক হাজার প্রার্থী ও তাদের বিপুলসংখ্যক সমর্থকের ভিড়ে সারাদেশের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়গুলোতে জমজমাট পরিস্থিতি দেখা দেয়। তবে প্রার্থিতা দাখিলকে ঘিরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বড় কোনো খবর মেলেনি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য ফেনী-১, বগুড়া-৭ এবং দিনাজপুর-৩ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ এই নেত্রীর হাতের আঙুলের ছাপ দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারাসহ বিএনপি জোটভুক্ত শরিক দলগুলোর নেতারাও বিভিন্ন আসনে প্রার্থিতা দাখিল করেছেন।
অন্য দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম চট্টগ্রাম-১৪ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলা-১; নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২; গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ঢাকা-১২ আসনে প্রার্থী হয়েছেন।
ঢাকার চিত্র
শেষ দিনে মনোনয়নপত্র জমাকে ঘিরে ঢাকা জেলার ২০টি আসনের জন্য নির্ধারিত ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় জমজমাট ছিল। এই তিন কার্যালয়ের বাইরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়েও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন প্রার্থীরা। এর মধ্যে ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন দলটির প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে সবার ভোটে তারেক রহমান নির্বাচিত হয়ে আগামী দিনে বাংলাদেশে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন– এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় জোট থেকে ঢাকা-১১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর পক্ষে মনোনয়ন জমা দেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন ও যুগ্ম সদস্য সচিব তামিম আহমেদ।
ঢাকা-৮ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পরে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েই জোটের হয়ে নির্বাচনে মাঠে নামছেন তারা। প্রয়োজনে শহীদ হওয়ার মানসিকতা নিয়েই তিনি মাঠে আছেন।
ঢাকা-১৪ আসনের জন্য বিএনপির প্রার্থী ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধানের দাবিতে গড়ে ওঠা সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন দারুস সালাম থানা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ এ সিদ্দিক।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে ঢাকা-১৫ আসনের জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলীর কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। পরে জুবায়ের বলেন, সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন যাতে উপহার দিতে পারি, সেই প্রত্যাশা করছি। আশা করি, নির্বাচন কমিশন ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
ঢাকা-১৫ আসন থেকে আরও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, এনসিপির আলমগীর ফেরদৌস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এসএম ফজলুল হক, খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, গণফোরামের একেএম শফিকুল ইসলাম এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ডা. আহমেদ সাজেদুল হক রুবেল।
এর আগে ঢাকা-১৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বিএনপি থেকে মনোনীত জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, আমরা আশাবাদী, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে। ইসি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন। কৌশলগত কারণে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন বলে জানান তিনি।
ঢাকা-১৩ আসন থেকে আরও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মোবারক হোসাইন, এনসিপির আকরাম হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুরাদ হোসেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) শেখ মোহাম্মদ, নাগরিক ঐক্যের মাহবুবুর রহমান, বিএনপি (স্বতন্ত্র) কায়েস মাহমুদ ও কামরুজ্জামান জুয়েল, গণমুক্তি জোটের শাহরিয়ার ইফতেখার, রিপাবলিকান পার্টির আশরাফুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সোহেল রানা এবং স্বতন্ত্র শেখ রবিউল ইসলাম।
অন্যদিকে মনোনয়নপত্র জমাদানের কার্যক্রম শেষে ঢাকা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার রেজাউল করিম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঢাকা জেলার পাঁচটি আসনে ৪৪ এমপি প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে মনোনয়নপত্র নিলেও জমা দেননি ২১ জন।
সংশোধিত তপশিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময় ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।












