ঢাকা,  রোববার, ১৯ মে ২০২৪, ,

গ্রাহকের আড়াই কোটি টাকা নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা ‘উধাও’

সারাবাংলা

চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:১৬, ১৫ এপ্রিল ২০২৪

গ্রাহকের আড়াই কোটি টাকা নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা ‘উধাও’

ফাইল ছবি

গ্রাহকের ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা নিয়ে পূবালী ব্যাংক চাঁদপুর নতুনবাজার শাখার ব্যবস্থাপক শ্রীকান্ত নন্দী (৪০) উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী। আর কোনও গ্রাহকের টাকা নিয়েছেন কিনা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। এদিকে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছে।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ব্যাংকের ওই শাখার বর্তমান দায়িত্বরত ব্যবস্থাপক মো. হুমায়ুন কবির, মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল এবং গ্রাহকরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ব্যাংক কর্মকর্তা শ্রীকান্ত নন্দীর বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ঘাগড়া গ্রামে। তিনি সপরিবারে দেশের বাইরে চলে গেছেন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি চাঁদপুর নতুনবাজার শাখায় যোগ দেন। এর আগে তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দি শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।


গত ৮ এপ্রিল গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায় গেলে ৯ এপ্রিল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, আকবর হোসেন লিটন নামে এক গ্রাহকের এক কোটি ৭৬ লাখ টাকা ৮ এপ্রিল ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা আত্মসাৎ করেন ওই ব্যাংক ম্যানেজার। এ ছাড়া আরও এক গ্রাহকের কাছ থেকে আগেই ৭৫ লাখ টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ব্যাংকের নিয়মিত গ্রাহক স্থানীয় ব্যবসায়ী আকবর হোসেন লিটন বলেন, ‘ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শ্রীকান্ত নন্দী এখানে যোগদানের পর থেকেই আমার সঙ্গে পরিচয়। কয়েকদিনের মধ্যে দিয়ে দেবেন বলে ঈদের আগে তিনি আমার কাছে টাকা ধার চান। আমি সরল বিশ্বাসে তাকে এক কোটি ৭৬ লাখ টাকা দিই। কিন্তু তিনি টাকা নিয়ে দিয়ে ব্যাংক থেকে চলে যান। এই ঘটনায় আমি ১৩ এপ্রিল চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি জিডি করেছি।’


আরেক গ্রাহক কচুয়া উপজেলার আশ্রাফুর এলাকার দলিল লেখক মারুফ। অধিক মুনাফা দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ব্যবস্থাপক শ্রীকান্ত নন্দী নেন ৭৫ লাখ টাকা নেন বলে জানা গেছে। মারুফের আত্মীয় একই ব্যাংকের গ্রাহক নাছির উদ্দিন খান বলেন, ‘ব্যাংকের ব্যবস্থাপক অধিক মুনাফা দেওয়ার কথা বলে আমার আত্মীয় মারুফের কাছ থেকে ৭৫ লাখ টাকা নেন। টাকা না দেওয়ায় ঈদের আগে তার সঙ্গে দুই বার বৈঠকে বসা হয়েছে। ঈদের পরে টাকা ফেরত দেবেন বললেও এখন তিনি নিখোঁজ।’

এদিকে, শ্রীকান্ত নন্দী গত ৪ এপ্রিল বিকাল ৩টার পরে ব্যাংক থেকে নিখোঁজ উল্লেখ করে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় জিডি করেছেন ওই শাখার বর্তমান দায়িত্বরত ব্যবস্থাপক মো. হুমায়ুন কবির। তিনি ওই জিডিতে উল্লেখ করেন, শ্রীকান্ত নন্দীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নতুন দায়িত্বরত শাখা ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে আমাকে এই শাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আজই এই শাখায় যোগদান করেছি। শ্রীকান্ত নন্দীর ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত এবং থানায় জিডি করা হয়েছে। ঘটনটি তদন্ত চলছে। আমাদের অভ্যন্তরীণ গ্রাহকদের লেনদেনে কোনও সমস্যা নেই।’

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই নজরুল বলেন, ‘ঈদের আগে ৯ এপ্রিল পূবালী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. হুমায়ুন কবির ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক শ্রীকান্ত নন্দী নিখোঁজ রয়েছেন বলে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ওই ডায়েরির আলোকে আমাকে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি। লেনদেনের বিষয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’