ঢাকা,  মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ,

কাউন্সিলরকে মারধর, পৌরসভার কার্যক্রম বন্ধ

কাউন্সিলরকে মারধর, পৌরসভার কার্যক্রম বন্ধ

ফাইল ছবি

দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইমরান হোসেন দুলালকে মারধর করার প্রতিবাদে পৌরসভার নাগরিক সেবা বন্ধ করে দিয়েছেন কাউন্সিলররা। এতে জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব, ট্রেডলাইসেন্সসহ বিভিন্ন দরকারে পৌরসভায় সেবা নিতে আসা ব্যক্তিরা বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। সেবা না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

সোমবার (১১ মার্চ) সকালে পৌরসভার সব কাউন্সিলর বৈঠক করে বেলা ১১টা থেকে পৌরসভার নাগরিক সেবা বন্ধ করে দেন। যতদিন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার বা সুষ্ঠু বিচার না হবে ততদিন এই আন্দোলন চলবে বলেও জানিয়েছেন তারা।


পৌরসভায় সেবা নিতে আসা রুহুল আমিন বলেন, আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্রেড লাইসেন্স দরকার- সেটি নেওয়ার জন্য এসেছি। কিন্তু এসে দেখি, পৌরসভায় কাউন্সিলরদের কর্মবিরতি চলছে যার কারণে কোনও কাজ হচ্ছে না। সকাল থেকে কয়েকবার ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার জন্য ঘুরলাম কিন্তু তারা কোনও কাজ করছেন না। বাধ্য হয়ে খালি হাতেই ঘুরে যাচ্ছি। একেতো সময় ব্যয় হচ্ছে পাশাপাশি কয়েকবার আসা যাওয়া করতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তাদের কী সমস্যা বসে ঠিক করুক, নাগরিকদের এমন দুর্ভোগে ফেলা ঠিক নয়।


বাসন্তি রানী বলেন, আমার মেয়ের জন্মনিবন্ধন করার জন্য আবেদন করেছিলাম। আজ দেওয়ার তারিখ ছিল। কিন্তু এসে দেখি তাদের আন্দোলন চলছে, যার কারণে জন্মনিবন্ধন নাকি হয়নি। একেতো কাজ ফেলে টাকা খরচ করে বাড়ি থেকে পৌরসভায় এসেছি, আবার তাদের আন্দোলনের জন্য খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। এখন কবে তাদের আন্দোলন শেষ হবে আর কবে আমরা কাগজ পাবো সেটি কেউ বলতে পারছে না। এদিকে মেয়ের স্কুলের জন্য জন্মনিবন্ধনটা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। তাদের আন্দোলন চলার কারণে আমরা যারা বিভিন্ন সেবা নিতে পৌরসভায় এসেছি তারা সবাই চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে গেছি। তাদের কি দাবি দাওয়া রয়েছে সেটি বসে মীমাংসা করে নেবে কিন্তু আমাদেরকে এভাবে জিম্মি করে তাদের আন্দোলন করা কতটা যৌক্তিক। আমরা চাই, দ্রুত তাদের এই আন্দোলনের অবসান হোক।

পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইমরান হোসেন দুলাল হোসেন বলেন, গত ৮ই মার্চ একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র দুই পক্ষের মাঝে বাগবিতণ্ডা হয়। এর একপর্যায়ে তারা আমার কাছে আসে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেওয়ার জন্য। আমি তাদেরকে রাত ৮টার সময় হিলি বাজারে যে আমার ব্যক্তিগত অফিস রয়েছে সেখানে আসতে বলি। বাশার ও সাবিনা নামের দুই পক্ষই আসার পরে বিষয়গুলো শুনছিলাম তাদের কাছ থেকে। এর মাঝেই বিবাদীদল সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলা করে মারধর করে একই সঙ্গে বলতে থাকে যে আমি এই বিচার মানি না। এ সময় সাবিনা নামের বিবাদী তার পায়ের জুতা দিয়ে আমাকে মারধর করে। এই ঘটনায় আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি। এর মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার হবে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এই দাবি জানাচ্ছি।


পৌরসভার প্যানেল মেয়র মিনহাজুল ইসলাম বলেন, গত ৮ মার্চ একটি ঘটনা মীমাংসার জন্য বাদী-বিবাদীকে নিয়ে হিলি বাজারের তার নিজস্ব কার্যালয়ে বসেন পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইমরান হোসেন দুলাল। বিচার চলাকালে বিবাদী দল কাউন্সিলরকে মারধর করে ও লাঞ্ছিত করে। এই ঘটনায় সেদিনই ওই কাউন্সিলর বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বা আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি। এই ঘটনায় সোমবার সকালে আমরা বৈঠক করি সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় কর্মবিরতিতে যাওয়ার। ওই ঘটনার প্রতিবাদে পৌরসভার সব কাউন্সিলর কর্মবিরতি পালন করছি। পৌরসভার সব ধরনের নাগরিক সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যতদিন পর্যন্ত এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হবে না বা আসামিদের ধরা হবে না ততদিন আমাদের এই কর্মবিরতি চলবে।

হাকিমপুর থানার ওসি দুলাল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে তারা একটি অভিযোগ দিয়েছিল আমি মামলা রেকর্ড করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা বলছিল মামলা রেকর্ড না করতে, মামলা পরে করবেন বলে জানান। তারা নিজেরাই বিষয়টি সমাধান করবে মর্মে আমাদের জানিয়েছিলেন যার কারণে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। মামলা দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।