ঢাকা,  সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ,

অবশেষে চিকিৎসা সেবা পেলেন মানসিক ভারসাম্যহীন সেই অন্তঃসত্ত্বা 

অবশেষে চিকিৎসা সেবা পেলেন মানসিক ভারসাম্যহীন সেই অন্তঃসত্ত্বা 

ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি না নেওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন গর্ভবতী নারী তাহমিনা অবশেষে চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন। ওই নারী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তার গর্ভের সন্তান সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে। গর্ভবতী এই মায়ের পরিপূর্ণ চিকিৎসা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক ডা. সানজিদা পারভিন নোভা।


এর আগে অনেক চেষ্টা করেও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল তাকে ভর্তি নেয়নি। এমন অভিযোগ করেন আদর্শ নিবাস বৃদ্ধাশ্রমের স্বেচ্ছাসেবকরা।

আদর্শ নিবাস বৃদ্ধাশ্রমের পরিচালক তাজুল ইসলাম বলেন, শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ও রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হই। পরে আমাদের প্রচেষ্টায় রোববার সন্ধ্যায় বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের সামনের খিদমাহ মেডিকেল সার্ভিসেসে মানসিক ভারসাম্যহীন অন্তঃসত্ত্বা তাহমিনাকে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তার আল্টাসনোগ্রাফি করানো হয়েছে। চিকিৎসক সানজিদা পারভীন নোভা বলেছেন তাহমিনার গর্ভের সন্তান সুস্থ রয়েছেন।


তিনি বলেন, চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী মানসিক ভারসাম্যহীন এই নারীকে এখন চিকিৎসকের আওতায় থাকতে হবে। কিন্তু আমাদের বৃদ্ধাশ্রমে তাকে রাখতে পারছি না অন্য বৃদ্ধ যারা রয়েছেন তাদের সঙ্গে রাখলে তাদেরও সমস্যা হচ্ছে। তাহমিনা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তাকে নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল। হাসপাতালের মানসিক ওয়ার্ডে রাখতে পারলে অন্তত চিকিৎসা চলতো। এখন চিকিৎসা না চললে যেকোনো সময়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।


বেসরকারি ওই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক সানজিদা পারভীন নোভা বলেন, তাহমিনার রিপোর্ট পর্যালোচনা করে বুঝলাম তার গর্ভের সন্তানের বয়স ৩০ সপ্তাহ ৪ দিন। অনাগত নবজাতকের এখন পর্যন্ত ওজন আছে ১৬শ ২৪ গ্রাম। রিপোর্ট অনুসারে মানসিক ভারসাম্যহীন এই রোগীর সন্তান প্রসবের তারিখ ১৭ এপ্রিল।

তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবকরাতো তো আছেনই পাশাপাশি সবাই যদি এই অসহায় নারীর জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাহলেই সুস্থভাবে একটি নবজাতক ভূমিষ্ঠ হতে পারবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন তাহমিনা রূপাতলী বাস টার্মিনালে থাকতেন। এর মধ্যে তিনি কারো ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। কয়েকদিন ধরে তিনি অসুস্থ অবস্থায় ঘুরছিলেন। খবর পেয়ে আদর্শ নিবাস বৃদ্ধাশ্রমের স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলেও তার ভর্তি নেয়নি সরকারি এই হাসপাতাল। একপর্যায়ে হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভর্তি নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। তারপরও তার ভর্তি নিতে অপারগতা প্রকাশ করে বিভিন্ন ওয়ার্ডের কর্মকর্তারা। শেষে রোববার রাতে পুনরায় বাস টার্মিনালে রেখে আসেন স্বেচ্ছাসেবকরা।

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ভর্তি রেখে চিকিৎসার জন্য বলেছি। তাকে হাসপাতালে ভর্তি না রাখে তা অন্যায্য করেছে। আমাকে বিষয়টি কেউ জানায়নি। সোমবার নারীকে হাসপাতালে নিয়ে এলে আমি নিজে থেকে ভর্তির ব্যবস্থা করব।