ঢাকা,  মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ,

রিমালের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ১৯ জেলা, দেড় লাখ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

রিমালের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ১৯ জেলা, দেড় লাখ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

ছবি: সংগৃহীত

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান বলেন, ‘ঝড়ে ৩৫ হাজার ৪৮৩টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও এক লাখ ১৪ হাজার ৯৯২টি ঘরবাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ছয় জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। তবে ব্যাপক প্রস্তুতি থাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমাল আমরা সফলভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কয়েকদিন ধরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়ায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রিমাল বাংলাদেশের উপকূলীয় জনপদে আঘাত হানতে শুরু করে রোববার সন্ধ্যায়। মধ্যরাত পর্যন্ত এটি পুরোপুরি স্থলভাগে চলে আসে। পরবর্তীতে এটি স্থল গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আর এর প্রভাব দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় সোমবার দিন পেরিয়ে রাতেও অব্যাহত রয়েছে।

‘রিমালের কারণে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে পানি ঢুকে জনজীবন ব্যাহত করেছে। বেশ কিছু ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশব্যাপী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।’

মহিববুর রহমান বলেন, ‘আমরা সরকারের সকবিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দুর্যোগ-পূর্ব কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। এখন দুর্যোগ-পরবর্তী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছি।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে পূর্বাভাস দিয়েছে এবং আগাম কার্যাবলী ও সাড়া প্রদানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করেছে। আমরা আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহাওয়া কেন্দ্রের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস মডেল নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সময়োপযোগী কার্যক্রম নেয়া হয়েছে।’

এই ঘূর্ণিঝড়টি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এনডিআরসিসি ২৪ ঘন্টা খোলা রয়েছে। আজ সকাল থেকেই আমারা ঘূর্ণীঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে যাচ্ছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে উপকূলীয় জেলাসমূহের মাননীয় সংসদ সদস্যদের সাথে ফোনে কথা বলে স্থানীয় মানুষের খোজ-খবর নিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সার্বক্ষনিক তদারকি করছেন।

এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী রিমালের আঘাতে খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা ও চট্টগ্রামে মোট ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ঝড়ে মোট ১৯টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো হলো- খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, ফেনী, কক্সবাজার, চট্রগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর ও যশোর।

ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার সংখ্যা ১০৭ এবং ইউনিয়ন ও পৌরসভার সংখ্যা ৯১৪।

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৬ জন। সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে ৩৫ হাজার ৪৮৩টি ঘরবাড়ি এবং আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে ‌এক লাখ ১৪ হাজার ৯৯২টি ঘরবাড়ি।

ঘূর্ণিঝড় সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে উপকূলীয় এলাকায় ৯ হাজার ৪২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্র ও স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৮ লাখের বেশি লোক আশ্রয় নিয়েছে। গরু-মহিষ, ছাগল-ভেড়াসহ আশ্রিত পশুর সংখ্যা ৫২ হাজার ১৪৬টি।

দুর্গত লোকজনকে চিকিৎসা সেবা দিতে মোট এক হাজার ৪৭১টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে চালু আছে এক হাজার ৪০০ টিম।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দুর্যোগকবলিত মানুষের সাহায্যে ইতিমোধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছি। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের অনুকূলে ৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি জেলায় জিআর (ক্যাশ) তিন কোটি ৮৫ লাখ টাকা, ৫ হাজার ৫০০ টন চাল, ৫ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য কেনার জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ ও গো-খাদ্য কেনার জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা রয়েছে।