ঢাকা,  সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ,

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে একমত মিয়ানমার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে একমত মিয়ানমার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মাল্টি কালচারাল ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরুর ব্যাপারে মিয়ানমার সরকার একমত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট ডিসি পার্কে দুই দিনব্যাপী মাল্টি কালচারাল ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।


এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন, ইতিমধ্যে আমি ভারতসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেছি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেছি। ন্যাম সামিটে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দেখা হয়েছে। সেখানে আমি তাকে বলেছি- অন্তত প্রত্যাবাসনটা শুরু করার জন্য। তার কথাবার্তায় আমার যেটি মনে হয়েছে, মিয়ানমার প্রত্যাবাসন শুরুর ব্যাপারে একমত। কিন্তু তাদের এখনকার অভ্যন্তরীণ যে সংকটগুলো চলছে, সেই কারণে এই মুহূর্তে তারা পারছে না। মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত যেসব মানুষ আমাদের দেশে আছে, তাদের সসম্মানে নাগরিক অধিকার দিয়ে ফেরত পাঠানোই একমাত্র সমাধান। সেই সমাধানের লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।


ড. হাছান মাহমুদ আরও বলেন, পাশের দেশ ভারতেও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশ ঘটেছিল, পরে তাদের ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুধু আমাদের দেশে মিয়ানমারের সীমান্ত বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে তা নয়, ভারতেও কয়েকশ লোক ঢুকেছে। তাদেরও তারা (মিয়ানমার) ফেরত নিয়ে গেছে।

এরপর জেলা প্রশাসন আয়োজিত মাল্টি কালচারাল ফেস্টিভ্যাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য গত ১৫ বছরে বহু প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ভারতীয় উপমহাদেশে নদীর তলদেশ দিয়ে প্রথম টানেল হয়েছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে। এখানে বে-টার্মিনাল নির্মিত হতে যাচ্ছে। সেটি নির্মিত হলে এটি আরেকটি চট্টগ্রাম বন্দর হবে।

এখন চট্টগ্রাম বন্দরের সবমিলিয়ে দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৬ কিলোমিটার। আর বে-টার্মিনাল হবে ১০ কিলোমিটার। বে-টার্মিনালের ড্রাফট হবে ১২ মিটার। সেটির কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে। এরপর এখানে যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে সেটি অভাবনীয়।

তিনি বলেন, আমি গতকাল ভারত সফর করে এসেছি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথেও আমার এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদের উত্তর-পূর্ব প্রদেশগুলো যাতে আমাদের চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে তাদের মাল আনা-নেওয়া করতে পারে, সেটির জন্য তারা উদগ্রীব হয়ে বসে আছে। একইভাবে আমরাও উদগ্রীব হয়ে বসে আছি। আশা করি সেটিও খুব দ্রুত শুরু হবে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মো. ফখরুজ্জামানের সভাপতিত্বে মাল্টি কালচারাল ফেস্টিভ্যাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত লিও টিটল আউসান জুনিয়র, এফবিসিসিআইর সভাপতি মাহবুবুল আলম ও ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ড. রাজীব রঞ্জন। স্বাগত বক্তব্য দেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম রফিকুল ইসলাম।